ডেস্ক রিপোর্ট :: গাজীপুরে শ্রীপুরে পরিবারের অমতে কিশোর বয়সে প্রেমিককে বিয়ে করার ২বছর না যেতেই স্বামীর হাতে জীবন দিতে হলো ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীকে। লাশ তালাবদ্ধ ঘরে রেখে তার স্বামী অপু পালিয়েছে।

শনিবার (১১এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (জংলাপাড়া) এলাকার মাসুদ মিয়ার ভাড়া বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ঝর্ণা আক্তার (১৬) শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের মো. হামিদুল ইসলামের মেয়ে। ঝর্ণা শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জনৈক মাসুদ রানার বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। স্বামীর নাম অপু আহমেদ(১৮)। তিনি একজন বাসচালক।

স্থানীয় ও নিহত ঝর্ণার বাবা হামিদুল মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ২বছর আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তের বাইরে অমতে অপুকে বিয়ে করেছিল ১৪ বছর বয়সী ঝর্ণা। পরিবার তাদের বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় ভাড়া বাসায় চলে যায় তারা। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে অপু-ঝর্ণার যোগাযোগ ছিল না। বিয়ের পর থেকেই ঝর্ণা তার স্বামী অপুকে নিয়ে বাড়ির পাশের বেড়াইদেরচালা গ্রামের মাসুদ মিয়ার বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া থাকতেন। শনিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে ঝর্ণার মৃত্যুর খবর জানে পরিবার।
বাড়ির মালিক মাসুদ মিয়ার স্ত্রী লাভলী খাতুন বলেন, পরিবারের অমতে বিয়ে এবং অন্যত্র থাকার কারনে নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। শনিবার সন্ধ্যায় অপু প্রতিবেশী তানিয়াকে ফোন করে ঝর্ণার মৃত্যুর বিষয়টি জানায়। সে ফোনে বলে, ঝর্ণার লাশ ঘরে রয়েছে, তার বাবাকে জানাও। পরে তানিয়া তাৎক্ষণিক বাড়ির মালিককে জানালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,’ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যদিও সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে বা বালিশ চাপা দিয়ে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ ঘরে রেখে বাহির থেকে তালা দিয়ে স্বামী পালিয়েছে। স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‘
Leave a Reply